নাগরিকতা অর্জনের পদ্ধতি

নবম-দশম শ্রেণি (মাধ্যমিক) - পৌরনীতি ও নাগরিকতা - নাগরিক ও নাগরিকতা | NCTB BOOK
7.2k
Summary

নাগরিকতা অর্জনের দুটি প্রধান পদ্ধতি রয়েছে:

  • জন্মসূত্র: এই পদ্ধতিতে নাগরিকতা জন্মগ্রহণের ভিত্তিতে অর্জিত হয়। এতে দুটি নীতি রয়েছে:
    • জন্মনীতি: সন্তানের নাগরিকতা পিতা-মাতার নাগরিকতার দ্বারা নির্ধারিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশি পিতা-মাতার সন্তান যুক্তরাজ্যে জন্মালে সে বাংলাদেশি নাগরিক হবে।
    • জন্মস্থান নীতি: সন্তানের নাগরিকতা তার জন্মস্থানের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশি পিতা-মাতার সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে জন্মালে সে মার্কিন নাগরিক হবে।
  • অনুমোদন সূত্র: এই পদ্ধতিতে নাগরিক হওয়ার জন্য কিছু শর্ত পালনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জিত হয়, যেমন:
    • বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকতা
    • সরকারি চাকরি করা
    • ভাষা জানাটা
    • দীর্ঘকাল অবস্থান করা
    • সম্পত্তি ক্রয় করা
    • সেনাবাহিনীতে যোগদান করা

মানবিক কারণে কিছু ব্যক্তিও নাগরিকত্ব পেতে পারে, যেমন রাজনৈতিক আশ্রয়ের ভিত্তিতে।

নাগরিকতা অর্জনের দুটি পদ্ধতি রয়েছে । যেমন- ক) জন্মসূত্র ও খ) অনুমোদন সূত্র ।
ক. জন্মসূত্রে নাগরিকতা অর্জনের পদ্ধতি : জন্মগ্রহণই যখন নাগরিকতা অর্জনের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয় তখন তাকে জন্মসূত্রে নাগরিক বলা হয়। জন্মসূত্রে নাগরিকতা অর্জনের ক্ষেত্রে দুটি নীতি অনুসরণ করা হয় । যথা- ১ । জন্মনীতি ও ২ । জন্মস্থান নীতি ।
১. জন্মনীতি : এ নীতি অনুযায়ী পিতা-মাতার নাগরিকতা দ্বারা সন্তানের নাগরিকতা নির্ধারিত হয় । এ ক্ষেত্রে শিশু যে দেশে বা যেখানেই জন্মগ্রহণ করুক না কেন, পিতা-মাতার নাগরিকতা দ্বারা সন্তানের নাগরিকতা নির্ধারিত হয়। যেমন- বাংলাদেশের কোনো এক দম্পতি যুক্তরাজ্যে গিয়ে একটি সন্তান জন্ম দান করলেন । এ নীতি অনুসারে ঐ সন্তান বাংলাদেশের নাগরিকতা লাভ করবে। কারণ তার পিতা-মাতা বাংলাদেশের নাগরিক ।
২. জন্মস্থান নীতি : এ নীতি অনুযায়ী পিতা-মাতা যে দেশেরই নাগরিক হোক না কেন, সন্তান যে রাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করবে সে ঐ রাষ্ট্রের নাগরিকতা লাভ করবে। যেমন-কোনো বাংলাদেশি পিতা-মাতার সন্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করলে, সেই সন্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকতা লাভ করবে। এ ক্ষেত্রে নাগরিকতা নির্ধারণে রাষ্ট্রকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এ নীতি অনুযায়ী কোনো মা-বাবার সন্তান অন্য দেশের জাহাজ বা দূতাবাসে জন্মগ্রহণ করলেও জাহাজ বা দূতাবাস যে দেশের সে ঐ দেশের নাগরিক হবে । এক্ষেত্রে উল্লেখ্য, জন্মসূত্রে নাগরিকতা প্রদানের ক্ষেত্রে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ জন্মনীতি অনুসরণ করে । বাংলাদেশ তার মধ্যে একটি। অন্যদিকে, আমেরিকা, কানাডাসহ অল্প কয়েকটি দেশ জন্মস্থান নীতির মাধ্যমে নাগরিকতা নির্ধারণ করে ।
অনুমোদন সূত্রে নাগরিকতা অর্জনের পদ্ধতি : কতগুলো শর্ত পালনের মাধ্যমে এক রাষ্ট্রের নাগরিক অন্য রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করলে তাকে অনুমোদন সূত্রে নাগরিক বলা হয় । সাধারণত অনুমোদন সূত্রে নাগরিকতা অর্জনের ক্ষেত্রে যেসব শর্ত পালন করতে হয় সেগুলো হলো- ১) সেই রাষ্ট্রের নাগরিককে বিয়ে করা, ২) সরকারি চাকরি করা, ৩) সততার পরিচয় দেওয়া, ৪) সে দেশের ভাষা জানা, ৫) সম্পত্তি ক্রয় করা, ৬) দীর্ঘদিন বসবাস করা, ৭) সেনাবাহিনীতে যোগদান করা । রাষ্ট্রভেদে এসব শর্ত ভিন্ন হতে পারে ।
কোনো ব্যক্তি যদি এসব শর্তের এক বা একাধিক শর্ত পূরণ করে, তবে তাকে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে হয়। আবেদন ঐ রাষ্ট্রের সরকার কর্তৃক গৃহীত হলে সে অনুমোদন সূত্রে নাগরিকে পরিণত হয় । বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি রাষ্ট্রে অনুমোদন সূত্রে নাগরিকত্ব লাভের মাধ্যমে বসবাস করছে । তাছাড়া মানবিক কারণেও নাগরিকতা দেওয়া হয় । যেমন- কোনো ব্যক্তি যদি কোনো রাষ্ট্রে আশ্রয় নেয়, তবে সেই রাষ্ট্র তার আবেদনের ভিত্তিতে তাকে নাগরিকত্ব দিতে পারে ।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...